অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে উদ্বোধনী জুটির ধারাবাহিক ব্যর্থতা। দীর্ঘদিন ধরেই ওপেনিং জুটিতে স্থিতিশীলতা না থাকায় কঠিন সফরের আগে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই সমস্যা।
পরিসংখ্যান বলছে, গত চার বছরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের কোনো ওপেনার সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ২০২৩ সালের শুরু থেকে টেস্টে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটির গড় সংগ্রহ মাত্র ২০.১৭ রান, যা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে ওপেনার হিসেবে রয়েছেন সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। তবে এই তিনজনের কেউই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্টে খেলেননি। তানজিদ এখন পর্যন্ত মাত্র একটি টেস্ট খেলেছেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর টেস্ট দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাব থাকা সত্ত্বেও দলে আছেন সাদমান ইসলাম।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি করা ওপেনার জাকির হাসান, যিনি প্রায় চার বছর আগে ভারতের বিপক্ষে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেছিলেন। এরপর নিজের শেষ ১৩টি টেস্ট ইনিংসে একটিও হাফ-সেঞ্চুরি করতে না পারায় দল থেকে বাদ পড়েন তিনি।
টেস্ট ক্রিকেট থেকে তামিম ইকবালের অবসরের পর বাংলাদেশ সাতজন ভিন্ন ওপেনারকে সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা ২১ ম্যাচে ওপেনাররা কোনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি। এই সময়ে তাদের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১০টি হাফ-সেঞ্চুরি, যা অংশগ্রহণকারী সব দলের মধ্যে সবচেয়ে কম।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করলেও সাম্প্রতিক বাজে ফর্মের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে জায়গা হয়নি মাহমুদুল হাসানের। সর্বশেষ ছয় টেস্ট ইনিংসে চারবার এক অঙ্কের রানেই আউট হন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া সফরে রওনা হওয়ার আগে বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত স্বীকার করেন, ওপেনারদের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, আধুনিক ক্রিকেটে ইনিংস শুরু করা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কঠিন।
শান্ত বলেন, ওপেনারদের প্রায়ই নতুন বল, সুইং, বাউন্স এবং কঠিন উইকেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। কখনও দিনের শেষ ভাগে, আবার কখনও স্যাঁতসেঁতে কন্ডিশনে ব্যাটিং করতে হয়। তাই দলের জন্য শক্ত ভিত্তি গড়ে দিতে হলে এই কঠিন পরিস্থিতিগুলো সফলভাবে সামাল দেওয়ার বিকল্প নেই।
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে ভালো সূচনা করতে পারলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। তবে উদ্বোধনী জুটির দীর্ঘদিনের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই সফরে দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্রীড়া ডেস্ক